নিউজ

তিন ছেলে পুলিশ কর্মকর্তা তবু ভিক্ষা করতে হচ্ছে মাকে, হৃদয় কাঁদছে বাংলাবাসীর!

নিজস্ব প্রতিবেদন :-মা এমন এক ধরনের শব্দ যার মধ্যে জড়িয়ে থাকে আবেগ ভালোবাসা হাসি-কান্না অভিমান। পৃথিবীর যা কিছু আবেগ রয়েছে তা সম্পূর্ণ রকম ভাবে শুরু হয় মায়ের থেকে। একটি মায়ের শ্রেষ্ঠ উপহার হল তার সন্তান । নিজের জীবনের সারা জীবনে উপার্জন বা সারা জীবন ব্যয় করে দেয় তার সন্তানদের মানুষ করতে । কিন্তু কখনো কখনো ভাগ্যের পরিহাস এমন হয় যে শেষ বয়সে এসে সেই সমস্ত মানুষদের কে পড়তে হয় চরম অসহায় এর মুখে । এই ঘটনা তারই প্রমাণ।

মানোয়ার বেগম এবং আইয়ুব আলীর ছোট্ট পরিবারের অভাব চিরস্থায়ী এবং রোজকার অতিথি হলেও ৬ সন্তানকে নিয়ে কোন রকম ভাবে দিন কেটে যাচ্ছিল তাদের । এদের মধ্যে তিনটি সন্তান পরবর্তীকালে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয় পুলিশ কর্মী হিসেবে এবং একটি মেয়ে সরকারী শিক্ষিকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে সমাজে । তার পাশাপাশি বাকি দুজন সন্তান ব্যবসা করেন । কিন্তু এই মায়ের আর দুঃখের শেষ নেই ।

আপনার হয়তো মনে হতেই পারে যার ছটি সন্তান এত ভাল অবস্থায় কর্মরত সেই মায়ের আবার দুঃখ কিসের ? কিন্তু আপনাদের একথা জানিয়ে রাখি যে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হলেই মানুষ হওয়া যায় এমন টা কিন্তু নয় । কখনো কখনো তাদের থেকে বেরিয়ে আসে অমানবিক আচরণ। এমনকি এই আচরণ তারা প্রয়োগ করে তার মায়ের উপরেও যে মা তাদের জন্য দিয়ে মানুষ করেছেন। এই ঘটনা তারই প্রমাণ।

বরিশালের বাবুগঞ্জে মানোয়ার বেগম এবং আইয়ুব আলীর ছোট্ট পরিবার ছিল । ছেলে-মেয়ে গুলিকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেও মেলেনি তার দাম । ফলে বৃদ্ধ বয়সে সে ভিক্ষা করে কাটাতে হচ্ছে জীবন। এমনকি কখনো কখনো একবেলা জোটে না ভাত ও । বেশ কিছুদিন আগে অর্থাৎ চার-পাঁচ মাস আগে ভিক্ষা করতে গিয়ে পড়ে গিয়ে মানোয়ার বেগমের কোমরের হাড় ভেঙে যায় । মানুষ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছে তার ছেলেমেয়ে কে কিন্তু তারা মায়ের খোঁজ নেয় না।

মনোয়ারা বেগমের ইজি বাইক চালক ছেলে গিয়াস উদ্দিন জানান, ‘আমার সাধ্য মত মাকে চিকিৎসা দেবার চেষ্টার করছি। এখন আমিও সহায় সম্বলহীন তাই বৃদ্ধ মা আজ বিনা চিকিৎসায় মৃ-ত্যু পথযাত্রী। আমার তিন ভাই পুলিশ অফিসার। তারা তাদের স্ত্রী সন্তান নিয়ে অন্যত্র থাকে। মায়ের কোন খোঁজ খবর নেয় না।’

এই ধরনের ঘটনা বারবার একটা ইঙ্গিত দেয় যে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারো বা না পারো, জীবনে অর্থ উপার্জন বিপুল পরিমাণে করতে পারো বা না পারো, সবার আগে মানুষ হওয়া প্রয়োজন এবং মানুষ হয়েছে কিনা তার প্রমাণ পাবে যখন কেউ তার মাকে শেষ বয়স অবধি সমানভাবে দেখে যাবে ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button