নিউজপলিটিক্স

‘পুজো কমিটি থেকে পুরোহিত’, সবাইকে টাকা বিলিয়ে দিচ্ছে রাজ্য সরকার, এদিকে রাজভবনের জন্য একফোঁটাও টাকা নেই!- রাজ্যপাল

নিজস্ব প্রতিবেদন :-করোনার পরিস্থিতিতে দেশের কি হাল তা অজানা নয় । তার সাথে সাথে রাজ্যের কি হাল সেটাও কমবেশি আমরা সকলেই জানি ।তারপর রাজ্যের উপর দিয়ে বয়ে গেছে আম্ফান এর মতন মতন বি-ধ্বং-সী ঝড়। ঘুরে দাঁড়াতে না দাঁড়াতে আরো একবার মুখ থুবরে পড়েছে রাজ্য।

এই অবস্থায় আর্থিক সংকট থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। কিন্তু এই আর্থিক সংকট থাকাকালীনও সরকার কিভাবে টাকা অপচয় করছে সে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকার। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য কেন্দ্রের কাছে এখনো বেশ কিছু টাকা প্রাপ্য । যা রাজ্য পাবে । কিন্তু এখনো কেন্দ্র মেটেনি সে টাকা । এমনটাই অ-ভি-যো-গ উঠেছিল কিছুদিন আগে । করোনা পরিস্থিতিতে এটাও দেখা গেছে অন্যান্য রাজ্যের তুলনায়ও পশ্চিমবাংলায় সবথেকে কম অনুদান দেওয়া হয়েছে। ফলে খালি হয়ে আসছে রাজ্যের কোষাগার ।

রাজ্যপাল রাজ্য ভবনের অতিরিক্ত খরচ বহন করার জন্য রাজ্যের কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা চান । কিন্তু তা পরিষ্কার না জানিয়ে দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ হন রাজ্যপাল । তারপরে চাঁচাছোলা ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী কে আ-ক্র-মণ করেন ।এদিন তিনি বলেন, রাজ্যে খোলা টাকা বিতরণ করা হচ্ছে৷ পুজো কমিটিগুলোকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে৷ পুরোহিতদের ভাতা দেওয়া হচ্ছে৷ কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন টাকা নেই৷

অথচ রাজভবনের জন্য ৩০-৪০ লক্ষ টাকা রাজ্যের নেই৷ বরাদ্দ করা অর্থও নেই রাজ্যের হাতে৷ ক্ষিপ্ত সুরেই তিনি বলেন, রাজ ভবনকে কোনও কিছুর সঙ্গে সমঝোতা করতে দেব না৷ সরকার ভুল করছে৷ এটা মানা যায় না৷ সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে তাঁর জানা উচিত৷ রাজভবনকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে৷ রাজভবনে মাত্র একজন আইইএস অফিসার এবং একজন ডব্লিউবিসিএস অফিসার রয়েছেন৷ আর কোনও অফিসার নেই৷ ৫০ শতাংশ কর্মী নেই৷

এর উত্তরে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় একটি চিঠি লিখেন রাজ্য ভবনে উদ্দেশ্যে। এবং চিঠিতে বলেন এই মুহূর্তে রাজ্য কষে টান পড়েছে সরকারি খাতে খরচ কমাতে হবে ।কাজেই এই মুহূর্তে অতিরিক্ত টাকা বহন করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয় ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ২০২০-২০২১ বর্ষে রাজভবনের জন্য ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির জন্য পেনশন এবং বেতন ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার কথা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার । সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েনি রাজভবন ও । কিন্তু রাজ্যের এই সিদ্ধান্তকে মানতে নারাজ রাজ্যপাল। তার বক্তব্য রাজ্য তার সাথে নেতিবাচক ব্যবহার করছে। রাজভবনে মর্দাযা তিনি ক্ষুণ্ন হতে দেবেন না কখনো। রাজ্যে এভাবে খোলা টাকা অপচয় করার প্রতি তিনি ঐদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী উপর ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button