নিউজ

‘প্রতিভার কাছে হার মানলো দারিদ্রতা’, এক মিনিটে ছোলার ডালের ওপর কবিগুরুকে এঁকে বিশ্বরেকর্ড তরুণীর!

Advertisement

প্রতিভা হয়তো অপরাজেয়। কোনও কিছুই বোধহয় হারাতে পারে না প্রতিভা কে। অ’ভাব ও নয়। কলেজপড়ুয়া এক ছাত্রী ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসের পর এবার ইন্টারন্যাশনাল বুক অফ রেকর্ডসে নিজের জায়গা করে নিলেন। মাইক্রোস্কোপ ছাড়া অর্থাৎ খালি চোখেই কবিগুরুর প্রতিকৃতির মাইক্রো আর্ট করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন শুভ্রা মন্ডল। এবং তার হাত ধরেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলো জলপাইগুড়ির অখ্যাত গ্রাম ঘুঘুডাঙা।

Advertisement

এ এক অন্য অনুভূতি। খালি চোখে একটি বল পেনের সাহায্যে একটি ৭মিলিমিটার ছোলার ডালের উপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি বানালেন, তাও আবার মাত্র ১ মিনিটে। এবং ছিনিয়ে নিলেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের খারিজ বেরুবারি ১ নং গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার ঘুঘুডাঙা গ্রামের বাসিন্দা এই শুভ্রা মন্ডল। তিনি বর্তমানে জলপাইগুড়ি প্রসন্নদেব মহা বিদ্যালয়ের ছাত্রী।

Advertisement

ইংরেজি অনার্সের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। তিনি ছাড়াও তাঁর বাড়িতে রয়েছে তাঁর বাবা, মা এবং এক বোন। বাবা ভজন মন্ডল ক্ষু’দ্র ব্যবসায়ী। মা পায়েল মন্ডল একজন গৃহবধূ। বোন পায়েল মন্ডলও পড়ুয়া। তিনি দ্বাদশ শ্রেণিতে পাঠরত।বাড়ির লোকেদের কথায় ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্য তাঁদের নিত্যকার সঙ্গী। কিন্তু ছোট বয়স থেকেই শুভ্রা ভালো ছবি আঁকতো দেখে বাবা দা’রি’দ্র্যের ক’ষ্টের মধ্যেও মেয়েকে ছবি আঁকার ক্লাসে ভর্তি করেন।

Advertisement

কিন্তু অভাবের কারণে অষ্টম শ্রেণির পর সেটা ব’ন্ধ হয়ে যায়। তবুও থেমে যাননি শুভ্রা। রঙ তুলীর বদলে তুলে নেন গাছের পাতা। ব্লেড দিয়ে তা কেটে বিভিন্ন মনীষীদের ছবি আঁকার পাশাপাশি বাদাম, ডাল প্রভৃতি জিনিসের উপর পরীক্ষামূলকভাবে বল পেন দিয়ে ছবি আঁকতেন। তবে এর পাশাপাশি চলছিল পড়াশোনাও।শুভ্রা বলেন “লকডাউনের সময় বিভিন্ন মানুষ গান, কবিতা, রান্না সহ বিভিন্ন ধরনের কাজ সোশাল মিডিয়াতে তুলে ধরছে।

Advertisement

আমিও ভাবলাম আমার ছবি আঁকাকে কাজে লাগিয়ে আমি যদি একটা রেকর্ড গড়তে পারি তবে আমি তা ফেসবুকে শেয়ার করতে পারব। সেই ভাবনা থেকেই প্রথমে বাদামের দানার ওপর ছবি আকার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ব্যর্থ হলাম। রাতভর ঘুমালাম না। এরপর দমে না গিয়ে পরদিন সকালে ছোলার ডালের ওপর বল পেন দিয়ে ছবি এঁকে ফেললাম। রেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে ফের ৭ মিলিমিটার সাইজের ছোলার ডালের দানার ওপর বল পেন দিয়ে ১ মিনিটে কবিগুরুর ছবি আঁকি।

Advertisement

তার ভিডিয়ো ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডে পাঠানোর পর সেই ভিডিয়ো দেখে তারা আবার লাইভ ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে আমার পরীক্ষা নেয়। আমি সফল হই। এরপর আমাকে কনফার্মেশন মেল পাঠায়। এরপর একইভাবে ইন্টারন্যাশনাল বুক অফ রেকর্ড থেকে আমার কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে আমাকে সার্টিফিকেট পাঠায়।”শুভ্রা আর বলেন,”আগামীতে আমার লক্ষ্য আরও ক্ষুদ্র সাইজের মাইক্রো আর্ট করে গিনেস বুকে নাম তোলা।

Advertisement

কিন্তু সেই ক্ষেত্রে আমার প্রয়োজন মাইক্রোস্কোপ জাতীয় জিনিসের। তবে মাইক্রোস্কোপ কেনার সা’মর্থ আমাদের নেই। যদি কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসে, তবে আমার খুবই উপকার হবে।”শুভ্রার কৃতিত্বে আনন্দিত মা শিখা মন্ডল বলেন, “মেয়ের সাফল্যে আমরা খুবই গর্বিত। সংসারে অভাবের কারণে ছোটবেলা থেকে মেয়েকে তেমনভাবে রঙ, তুলি,ক্যানভাস কিছুই কিনে দিতে পারিনি। ও নিজের চেষ্টায় আজ এই জায়গায় পৌঁছেছে। স্বীকৃতি পেয়েছে। কেউ যদি কিছু দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তবে আগামীতে লক্ষ্যপূরনের রাস্তা ম’সৃণ হয়।”

Advertisement

Advertisement

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button