নিউজ

‘জেলা সভাপতির বেশি উল্টোসিধা দেখলে দলের কর্মীরাই ঘাড় ধাক্কা দিয়ে দল থেকে বার করে দেবেন’- হুঁশিয়ারি তৃণমূল সাংসদ অপরূপার

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদন :-আর মাত্র কয়েকটা মাস অপেক্ষা তারপরে একুশের বিধানসভা ভোট । বলাবাহুল্য প্রায় দৌড় গোড়াতে এসে পৌঁছেছে। তবে এই ভোটের মুখে দেখা যাচ্ছে ব্যাপক পরিবর্তন । কখনো কখনো ঘটছে দলের মধ্যে ফাটল । আবার কখনো কোন দল হয়ে উঠছে আরও শক্তিশালী। ঠিক সেরকমই এক বড়সড় ফাটল দেখা গেল তৃণমূলের তবে সেটি হুগলি জেলার।

Advertisement

লোকসভা নির্বাচনে হুগলিতে বিজেপির ফল ভালো হয়। এরপরই তপন দাশগুপ্তকে সরিয়ে দল জেলা সভাপতি করে দিলীপ যাদবকে। কিছুদিন ঠিকঠাক চললো। তারপর থেকে শুরু হয় গন্ডগোল। উঠে আসে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ । এবার তারই দলের বি-রু-দ্ধে অভি-যো-গ করলেন তারই দলের সাংসদ অপরুপা পদ্দার ।

Advertisement

দিলীপ যাদবের সম্পর্কে প্রথম সাংবিধানিক বৈঠকে মুখ খোলেন প্রবীর ঘোষাল। তাঁর অ-ভি-যো-গ ছিল, জেলা সভাপতির জন্য উপদল তৈরি হচ্ছে। বিধায়কদের প্রধান্য না দিয়ে তাঁদের এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি করছেন সভাপতি।

Advertisement

শুধুমাত্র তিনি যে মুখ খুলেছেন এমনটা নয় এর পাশাপাশি দিলীপ যাদবের বি-রু-দ্ধে একজোট হয়েছে তার বি-রো-ধী-রা। তবে সে আর অন্য কোনো দলের নয় তারই দলের কর্মীরা। মূলত এক প্রকার সৃষ্টি বড়ো ক্ষো-ভ সৃষ্টি হয়েছে তার দলের কর্মীদের মধ্যে । যার ফল ভোগ করতে হতে পারে দিলীপ যাদব কে ।

Advertisement

এর পাশাপাশি উত্তরপাড়ায় তৃণমূলের কর্মী সম্মেলনে বেচারাম মান্নাও সভাপতির বি-রু-দ্ধে সরব হন। তিনি বলেন, “কেউ যদি খেটে দল করে থাকা কর্মীদের বঞ্চিত করেন, তাহলে প্রয়োজন পড়লে কর্মীরা তাঁকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবেন। সেই পরিবেশ হুগলি জেলায় তৈরি হয়েছে।” প্রকারান্তরে বেচারাম বুঝিয়ে দেন, সিঙ্গুর আন্দোলনে উত্তরপাড়ার নেতাকে দেখা যায়নি।

Advertisement

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য আরামবাগ এর সাংসদ অপরুপা পোদ্দার এবার সরব হলেন সেই দিলীপ যাদবের বিরুদ্ধে । ছুড়ে দিলেন একরাশ ক্ষো-ভ । তিনি বলেন “জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব বলেন যে সবসময় দলের নির্দেশ মানি। দল যা বলে তাই শুনে চলি। আমি ওনাকে একটা প্রশ্ন করতে চাই। দল কি ওনাকে বলেছে যে, আরামবাগের সাংসদের সঙ্গে কথা না বলেই তাঁর এলাকাতে সম্মেলন করতে? যেমন গতকাল পুরশুড়াতে সম্মেলন করেছেন বলে শোনা গিয়েছে। অথচ সেটা আমরা জানি না। পুরোনো দিনের কর্মীরা দুঃখ করছেন যে তাঁদের জানানো হয়নি।

Advertisement

উনি তারকেশ্বরেও কিছুদিন আগে প্রোগ্রাম করলেন, অথচ আমাকে সাংসদ হিসেবে কিছুই জানানো হয়নি। উনি খানাকুলেও প্রোগ্রাম করলেন, সেখানেও জানানো হয়নি। দল কি ওনাকে বারণ করেছেন যে হুগলি জেলার মধ্যে আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদকে না জানিয়ে প্রোগ্রাম  করতে? আমরা দলকে ভালোবাসি। দলের ঐক্যবদ্ধ সৈনিক হিসাবে ২০২১-এ একসঙ্গে লড়ব। কিন্তু উনি কেন এরকম করছেন, সেই উত্তর উনিই দিতে পারবেন!

Advertisement

আমরা হুগলি জেলার ১৮টা আসনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপহার দিতে চাই। আমরা চাই দলের শক্তি বৃদ্ধি হোক। কিন্তু দলের তৃণমূল স্তরের কর্মীরা ঝিমিয়ে পড়ছে! কবে কমিটি করবেন? এখনও কিছুই করছেন না সভাপতি। কোনও আলোচনা না করেই যা করার করছেন। আমরা মিটিং করছি ব্লক সভাপতি, এমএলএ-দের নিয়ে। একইসময়ে আরেকটা পাল্টা মিছিল হচ্ছে আমাদের জেলা সভাপতিকে নিয়ে। এতে মানুষের কাছে ঠিক বার্তা যাচ্ছে না । তাহলে কি সামনে বিধানসভা ভোটে হুগলী জেলাতে ধরতে চলেছে বড়োসড়ো ভাঙ্গন ?প্রশ্ন অনেকের ।

Advertisement

Advertisement

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button