নিউজ

‘নোট বাতিলের সিদ্ধান্তে কমেছে কালো টাকার পরিমাণ, বেড়েছে কর আদায়’- নোট বাতিলের ৪ বছর পূর্তিতে বললেন মোদী!

নিজস্ব প্রতিবেদন :- সালটা ২০১৪ । প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন নরেন্দ্র মোদী। তারপরে কেটে গেছে বহু সময়। এই সময়ের মধ্যে মোদি সরকার কর্তৃক নেওয়া হয়েছে নতুন নতুন নিয়ম। কখনো কখনো আবার পুরনো নিয়মের ঘটেছে সংশোধন । আর কখনো কখনো আবার নেওয়া নতুন নিয়মে হয়েছে তুমুল বিরোধিতা। ঠিক সেরকমই একটি বিরোধিতামূলক সিদ্ধান্ত হল নোট বাতিল ।

২০১৬ সালের ৮ ই নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান যে দেশের বাজারে ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোটের কোন বৈধতা আর থাকবেন না । অর্থাৎ পাঁচশো এবং হাজার টাকার নোট ৮ নভেম্বর থেকে হয়ে গিয়েছিল অবৈধ । কাজেই যাদের কাছে যত ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট ছিল তারা তড়িঘড়ি করে সেগুলি ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য লাইন দেয়। আমরা দেখেছিলাম তখন যে প্রতিটি ব্যাংকের বাইরে হাজার হাজার গ্রাহকের ভিড়। এমনকি সেই লাইনে দাঁড়িয়ে মারা গিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন। সেই নোট বন্দির আজ চতুর্থ বর্ষ।

চারটে বছর কেটে গেলেও আসলে যে কারণে জন্য নোট বন্দি করা হয়েছিল তা কি আদতে সফল ? প্রশ্ন অনেকের । মূলত কালো টাকা রুখতে এবং কর ব্যবস্থাকে আরও শক্ত করতে মোদি সরকারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল । কিন্তু রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া জানাচ্ছে যে ৫০০ টাকা এবং ১০০০ টাকার নোট ৯৯% জমা পড়েছে । তাহলে প্রশ্ন থাকছে যে কালো টাকা গেল কোথায়? যদিও এই ঘটনাকে নিয়ে সৃষ্টি ছিল সমালোচনা এবং এখনও সেটাই অব্যাহত হয়েছে । রাজনৈতিক দলগুলি করেছে বিভিন্ন কটাক্ষ।

নোট বন্দি কে কেন্দ্র করে রাহুল গান্ধী বলেন যে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী ইচ্ছাকৃতভাবে কৃষক খেটে খাওয়া গরিব শ্রেণীর মানুষদের টাকা ঘর থেকে বের করে নিয়ে তার পুঁজিপতি বন্ধুদের ঋণ মুকুব করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলেন। শুধুমাত্র কংগ্রেস নয় কংগ্রেসের পাশাপাশি সিপিএম-তৃণমূল এই ঘটনা সরব হন। তবে সেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে নোট বন্ধির সাফল্যের বার্তা ছড়াচ্ছে গেরুয়া শিবির।

নোটবন্দির চতুর্থ বর্ষপূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ট্যুইট, “নোট বাতিলের ফলে কমেছে কালো টাকার পরিমাণ। বেড়েছে কর আদায়। স্বচ্ছতা বেড়েছে লেনদেনে। ত্বরান্বিত হয়েছে দেশের উন্নতি। নোট বাতিলের সমর্থনে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনও লেখেন, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

কালো টাকার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি কর ব্যবস্থাকে সুসংহত করা এবং ডিজিটাল অর্থনীতির পথে এগিয়ে চলাই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু সাধারণ মানুষের মতে নোট বন্দি এবং এই দীর্ঘ অপরিকল্পিত লকডাউন তাদের জীবনে ডেকে নিয়ে এসেছে এক বড় সড় বি-প-দ ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button