নিউজ

সকালে লটারি কেটে কাজে গেলেন দিনমজুর, বিকেলে এসে দেখলেন তিনি এক কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন!

নিজস্ব প্রতিবেদন:-ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখার কথা আমরা এর আগে অনেকবার শুনেছি । যদি একটি একটি প্রবাদ বাক্য তবুও কখনো কখনো হয়তো এই সমস্ত বাক্য ওঠে জীবনের মূল অস্ত্র। ঘুরিয়ে দেয় জীবনের স্রোত। জীবন চলে জীবনের মতন । কখনো কারোর ভাগ্যের চাকা এক জায়গায় থেমে থাকেনা।

এক জীবনের সুখ-দুঃখ হাসি কান্না সবকিছু মিলে মিশে থাকে। যদি কারো জীবনে দুঃখ চলতে থাকে তাহলে সে অপেক্ষা করে সুদিনের আশায়। কখনো কখনো এই অপেক্ষা দীর্ঘতর হলেও একবার না একবার জীবনে তিনি সুখের ছোঁয়া পেয়ে থাকেন । তবে এমনটা কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে এক রকম ভাবেই পেতে হবে সুখের ছোঁয়া অর্থাৎ সুখের সংজ্ঞা যে একই রকম হবে প্রত্যেকের জীবনে এমন টা কিন্তু নয়।

আমরা বিভিন্ন সময়ে নিজেদের ভাগ্য ফেরাতে লটারি কেটে থাকি। এই লটারি মাধ্যমে অনেকে এর আগে অনেক টাকা বলাবাহুল্য কোটি টাকা পেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ হয়েছেন নিরাশ । অনেকে আবার পুরনো দিনের অভ্যাস ছেড়ে দিয়েছেন কারণ বহু দিন যাবৎ লটারি কেটে পাননি তিনি কোন ফল । আবার অনেকেই খুব স্বল্প সময়ে পেয়েছে সাফল্য। তবে একদম একেবারে কোটি টাকার গল্প খুব কম শোনা গেছে। সম্প্রতি এ রকম একটি ঘটনা ঘটল এক হতদরিদ্র পরিবারের সাথে।

পূর্ব বর্ধমানের ভাতার বাড়ি হরির । পেশায় সে দিনমজুরের কাজ করে। জন্মগত তিনি মুখ ও বধির । সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় এমন অবস্থা হরির। বিধবা স্ত্রী এবং ১৮ বছরের এক ছেলেকে নিয়ে তার ছোট্ট সংসার। বাড়ি বলতে মাটির দেওয়াল খড়ের ছাউনি । বর্ষাকাল এ ভাসিয়ে নিয়ে যায় সে বাড়ি কে ।

ছেলে বহুদিন আগে পড়াশোনা ছেড়ে বাবার সাথে কাজে লেগেছে দিনমজুরের । কিন্তু তাতেও ঘোচেনা সংসার এর অভাব । এই অবস্থায় আগামী দিনে কিভাবে জীবন চালাবে তা ভেবে কূলকিনারা পাননি তারা । তার ওপরেই লকডাউন যেন তাদের চিন্তার মাত্রা আরো বাড়িয়ে তুলেছে । তবে হঠাৎই দুশ্চিন্তার ঘটলো ইতি ।

দিনমজুরের কাজে যাওয়ার আগে ছেলের কাছ থেকে ৩০ টাকা নিয়ে বাজারে গিয়েছিলেন হরি। সে ৩০ টাকা দিয়ে কেটেছিলেন লটারি। কাজ থেকে ফিরে এসে তিনি দেখেন তিনি আর দিনমজুর বা হতদরিদ্র নেই । হয়ে গেছেন কোটিপতি। এমনই বিরলতম ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান ভাতার হরির এর সাথে । হরির স্ত্রী পুতুল বলেন, ‘‘স্বামী মাঝে মাঝে লটারির টিকিট কাটতেন জানি।

এ দিন ছেলের থেকে ৩০ টাকা চেয়ে নিয়ে সকালে বাজারে গিয়েছিলেন উনি। তা দিয়েই লটারি কাটেন। বিকেলে জানতে পারি ওই লটারিতে এক কোটি টাকা পড়েছে।’’ কথা বলতে না পারলেও, কোটি টাকা জেতার আনন্দ ঠিকরে পড়ছে হরির চোখ মুখ বেয়ে। মা-কে ইশারায় জানিয়ে দিয়েছেন, এ বার পাকা বাড়ি তৈরি করবেন। একই হয়তো বলেন রাখে হরি মারে কে। ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button