নিউজভিডিও

সহজ পদ্ধতিতে বাড়ির টবে লঙ্কা চাষ করুন ,রইলো পদ্ধতি!

Advertisement

বর্তমানে মানুষের খাদ্যতালিকায় লঙ্কা হলো একটি অপরিহার্য অঙ্গ। শুধুমাত্র ঝাল খাওয়ার উদ্দেশ্যেই এই খাদ্যবস্তুটি ব্যবহৃত হয় না।‌ যে কোন রান্নায় আলাদা স্বাদ এনে দেয় লঙ্কা। অনেকেই বাড়িতে লঙ্কার গাছ বসান। খেতে বসার আগেই টুক করে একটা লঙ্কা পেরে খেতে বসে যান অনেকেই। বাড়ির মধ্যে বিভিন্ন পদ্ধতিতে লঙ্কা চাষ করা যায়।যেমন বাড়ির টবেও চাষ করা যায় লঙ্কা। স্টেপ বাই স্টেপ পদ্ধতি অনুসরণ করে তবে লঙ্কা চাষ করা যায় খুব সহজেই।

Advertisement

আসুন তাহলে একবার দেখে নিন। লঙ্কা চাষ করার জন্য আগে দরকার মাটি।মাটি এক বিশেষভাবে তৈরি করলে তাতে লঙ্কার ফলন খুবই উৎ’কৃষ্ট হবে। যেমন একভাগ বাগানে সাধারণ মাটি নিতে হবে এবং এর সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে কেঁচো সার। যদি কেঁচো সার উপলব্ধ না থাকে, তাহলে এক বছর ধরে পচা পাতা বা পুরোনো গোবর সার হিসেবে মিশিয়ে নিন। এর সাথে এক ভাগ নিতে হবে নদীর বালি মাটি। তবে এই ধরনের মাটি বাঁশ খাওয়ার কোন নার্সারিতে আপনি পেয়ে যেতে পারেন।

Advertisement

এই মাটির মধ্যে থাকা বাতাস বের করে নিতে হবে।এরপর বাড়ির লঙ্কা দিয়েই বীজের প্রস্তুত করে ফেলুন। এর জন্য বাড়িতে থাকা পাকা লঙ্কা রোদে কয়েক দিন শুকিয়ে নিয়ে সেগুলো থেকে বীজ বের করে ফেলুন। তারপর ভালো করে শুকিয়ে নিয়ে কাগজে মুড়ে একটি বাতাস নিরোধক পাত্রে রেখে দিন। বীজে অল্প হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে রেখে দিন। ‌ তবে অন্ধকার স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় বীজগুলি রাখবেন না। এবার প্লাস্টিকের চায়ের কাপে ছিদ্র করে নিন তার উপরে মাটি দিয়ে দিন। তারপর প্রতিটি কাপে দুটি করে বীজ দিন। তারপর আবার মাটিচাপা দিয়ে অল্প চাপ দিয়ে একটুখানি চেপে দিন। ‌ তারপর রোজ‌ই অল্প অল্প করে জল দিতে থাকুন এবং 25 দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

Advertisement

এবার দেখে নিন লঙ্কা চাষ করার জন্য কি ধরনের টব নেবেন :

Advertisement

মোটামুটি মাঝারি সাইজের টব নিতে পারেন। যেকোনো বাড়িতে ব্যবহার করা পাত্র বা প্লাস্টিকের টবে লঙ্কা গাছ খুব ভালো দাঁড়িয়ে যায়। তবে পাত্রটির খুব ছোট না হলেই ভালো। ‌ পাত্রের নীচে ছিদ্র করে নিতে হবে ড্রিল মেশিন দিয়ে যাতে তবে জল নিষ্কাশন হয়ে যায়। তবে কেনা টবে আগে থেকেই ছিদ্র করা থাকে। এবার টবে মাটি দেওয়ার আগে একটা বেডিং করে নিন। মাটির যে কোন পাত্রের ছোট ভাঙা অংশ নিন। ওই ভাঙা অংশটা একদিক যেখানে ঢেউ খেলানো মত আছে সেই দিকটা নিচের দিকে রেখে ওই ছিদ্রের উপর দিয়ে দিতে হবে।

Advertisement

তারপর ওই ভাঙা টুকরো অল্প স্টোন চিপস দিয়ে দেখে নিন। তারপরে স্টোন চিপস এর উপরে এমনি বালি অল্প করে দিয়ে ঢেকে দিন যার জন্য জলের সঙ্গে ছিদ্র দিয়ে মাটি জলের সাথে বেরিয়ে যাবে না।
এবং টবেও জল দিতে পারবে না।25 দিন পর যখন প্লাস্টিকের কাপ থেকে চারা বেরিয়ে যাবে, তখন সযত্নে ওই চারা তুলে নিয়ে তবে বসিয়ে দিন।‌ তারপর চারপাশটা সুন্দর করে যত্ন সহকারে মাটি দিয়ে দিন এবং জল দিন।

Advertisement

এবার দেখে নিন কোথায় রাখবেন এই লঙ্কা গাছ:

Advertisement

লঙ্কা গাছের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত সূর্যালোক। তাই এইসব রেখে দিন যেখানে সূর্যের আলো পাওয়া যাবে ঠিকঠাক। সামান্য ছায়াযুক্ত জায়গায় রাখলেও লঙ্কা গাছ ভালোই দাঁড়িয়ে যাবে।উপযুক্ত ফলন পাওয়ার জন্য লঙ্কা গাছের প্রতি 15 দিন অন্তর এক চামচ ইউরিয়া, এক চামচ ম্যাগনেসিয়াম সালফেট, এবং এক চামচ পটাশ সার, টবের মাটির চারদিকে ছড়িয়ে দিন এবং পর্যাপ্ত পরিমান জল দিন।সারের দোকান থেকে ভিটামিন লিকুইড কিনে এনে তিরিশ ফোঁটা মত 1 লিটার জলে মিশিয়ে দেখে দিন।

Advertisement

তারপর দশ দিন অন্তর অন্তর এই মিশ্রণ লঙ্কা গাছে স্প্রে করতে থাকুন। ‌ যার ফলে লঙ্কা গাছ দিন দিন বৃদ্ধি পাবে।লঙ্কা গাছের পাতা কুঁকড়ে যায় এর সঙ্গে ফু‌ল‌ও ঝরে যায়। এর হাত থেকে বাঁচাতে রোগোটপ্লাস আর ক্যারিনা এই দুটি ওষুধের মধ্যে যেকোনো একটি নিয়ে এক লিটার জলে 30 ফোঁটা মিশ্রণ করে রেখে দিন এবং দশ দিন অন্তর অন্তর লঙ্কা গাছে স্প্রে করতে থাকুন। এর ফলে লঙ্কা গাছে কোন পোকা হওয়ার সমস্যা বা পাতা কুঁকড়ে যাওয়ার কোন রকম সমস্যা দেখা দেবে না। তাহলে লঙ্কা গাছ বাড়িতে করতে চাইলে উদ্ধৃত পদ্ধতি গুলি অবলম্বন করে দেখতে পারেন।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button