নিউজ

নবদ্বীপের জনপ্রিয় সংস্কৃত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর সাথে অশ্লীল চ্যাটের অভিযোগ! সোশ্যাল মিডিয়ায় চ্যাটের স্কিনশর্ট পোস্ট করলেন ছাত্রী!

Advertisement

একটি বিশেষ প্রতিবেদন:-উত্তরপ্রদেশের ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশজুড়ে । প্রতিবাদের সুর দিন দিন, ঘন্টায় ঘন্টায় বেড়ে চলেছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে জ্বলছে আগুন। কিন্তু উত্তরপ্রদেশকে যদি বড় ঘটনা হয়ে থাকে তবে আমাদের আশেপাশে এমন রোজ ঘটনা ঘটেই থাকে যা হয়তো আমরা এড়িয়ে যায় কিংবা দেখেও না দেখা করি না বা হতে পারে দমিয়ে রাখা হয়।

Advertisement

সেসব ঘটনা যখন ছোট ছোট স্ক্রিন শট আকারে বহিঃপ্রকাশ করে তখন তা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে আমাদের আশেপাশে ছোট ছোট ঘটনাগুলো পরবর্তী কারে উত্তরপ্রদেশ ,দিল্লি হতে পারে। এবং এরকমই একটি জলজ্যান্ত ঘটনার প্রতিবেদন আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাইছি । তবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করেনি আমাদের নিউজ পোর্টাল ।

Advertisement

সম্প্রতি নবদ্বীপের এক শিক্ষক এবং এক ছাত্রীর কথোপকথনের স্ক্রিনশট এর ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় নেটদুনিয়ায়। কি সেই ঘটনা এবং কার সাথে ঘটেছে সেই ঘটনা? ঘটনাটি ঘটে যে মেয়েটির সাথে সেই মেয়েটি তার বক্তব্য এবং অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে।

Advertisement

Advertisement

সাথে জুড়েছেন বেশকিছু হোয়াটসঅ্যাপের কথোপকথনের স্ক্রিনশট। আমরা এই মুহূর্তে হুবহু তুলে ধরব সেই মেয়েটির বক্তব্যটাকে যা তিনি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। আসুন দেখা নেওয়া যাক সেই চাঞ্চল্যকর বিস্ফোরক বক্তব্য।

Advertisement

#একে_চিনে_রাখুন
স্নেহাশিস রায়
বৈদিক শিক্ষাকেন্দ্র
নবদ্বীপ হিন্দু স্কুলের নিকট
নবদ্বীপ।
(একটি খোলা চিঠি)
শ্রদ্ধেয় দাদা,
আমি এটা ভাবতে পারিনি কোনোদিন।আশা করিনি আসলে,তোমার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছি তো,তাও আবার সংস্কৃত শিখিয়েছ আমাকে,ভগবানের ভাষা। তাই হয়তো ভেবে উঠতে পারিনি যে তুমিও একটা ধর্ষক হতে পারো।তুমি কত্ত ডিগ্রী অর্জন করেছ,কৃষ্ণনগর ডি.এল.রয় কলেজের প্রফেসর তুমি। অথচ দেখ শিক্ষায় স্বচ্ছতা ফলাতে কিরকম পরিমাণে অক্ষম তুমি।মনে আছে কলেজে যখন উঠলাম, তখন তোমার কাছে পড়বো বলে ঠিক করলাম।প্রথম প্রথম তো তুমি চিনতেই না আমাকে,একদিন আলাপ করলে আমার সাথে,কতো সুন্দর দাদা ছিলে আমার।

Advertisement

Advertisement

কম সম্মান করতাম?তুমি তো আমাকে দুমাসে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলে যে তুমি আমার সবচেয়ে বিশ্বাসী আর ভালো দাদা। আমি কোনো বিপদে পড়লে 50 টা লোক নিয়ে হাজির হয়ে যাবে।অবশ্য এই 50টা লোকের লাইনটা তুমি আমাকে ভয় দেখানোর জন্য দ্বিতীয় বারও ব্যবহার করেছ।আমার এত ভালো বিশ্বস্ত দাদাটা কাদায় পরিণত হয়ে যাবে সেটা আমি কী করে বুঝতাম?যদিনা এই নীচে দেওয়া ম্যাসেজগুলো তুমি আমাকে না করতে।অবাক হয়েছিলাম তোমার ভাষা দেখে,যার সংস্কৃত শ্লোক শুনে আমি মুগ্ধ হতাম। তাঁর কিনা এই ভাষা।

Advertisement

প্রথমে তো তোমার এই নোংরামো দেখেও তোমাকে এড়িয়ে যেতে পারিনি,যতই হোক খুব ভালো দাদা ছিলে হঠাৎ ব্লক করতে পারিনি,চুপ করে ছিলাম,কোনো উত্তর দিইনি।সেটাই আমার ভুল ছিল,তুমি তখনই ভেবেছিলে মৌনং সম্মতি লক্ষ্যনম্ ।কিন্তু না সবসময় এ প্রবাদটা চলেনা।কখনো কখনো চুপ করে থাকা মানে,সে তোমার সাথে কথা বলতে চাইছে না কিংবা সে গর্জে উঠতে পারছেনা তাই চুপ রয়েছে। তুমি বোঝনি।তারপরেও জঘন্য আরও ম্যাসেজ করলে,সে’বার করে দিয়েছিলাম ব্লক, মনে আছে? যখন পড়তে গেলাম তোমার কাছে তুমি সবার সামনে বললে আমি নাকি ‘সেয়ানা’,তুমি বোঝনা বলে আমি বুঝবোনা তা তো হয়না।

Advertisement

Advertisement

আমি বেশ বুঝেছিলাম যে তুমি ব্লক নিয়ে আমাকে কথা শোনাচ্ছ।আমার ধারনা ঠিক ছিল,পড়ার শেষে আমাকে তো ধমক দিয়ে ব্লক খোলালে।কিছুদিন পর আবার নোংরা মেসেজ,আবার ব্লক, আবার হুমকি-ধমক ,আবার আনব্লক।
সেইদিনটা ভুলিনি,সব এড়িয়ে চলছিলাম।আমি জানতাম তোমার মতো শিক্ষিত মানুষরা হয়তো স্যোসাল মিডিয়াতেই এমন,সামনাসামনি এমন নয়। ক্লাস টেস্ট নিলে টিউশনে, কেউই মন দিয়ে পরীক্ষা দিই নি,কিন্তু তুমি সবশেষে আমাকে দাঁড়াতে বললে।আমি জানতাম আমি বকা খাবো,বকা খেলামও।আমি মাথা নত করে শুধু বলছিলাম “দাদা পরের পরীক্ষা ভালো দেবো”।তোমার যে কী হলো? আমাকে কী জোড়ে দেওয়ালে ঠেসে ধরেছিলে।

Advertisement

তোমার গায়ে এত জোর?বাঁ হাত দিয়ে মুখ চাপলে আমার,ডান হাত দিয়ে আমার দুটো হাতের কবজি একসাথে ধরে দেওয়ালে ঠেসে রাখলে।আমার শরীর ছেড়ে দিয়েছিল,আমার মুখ থেকে বাম হাত সরিয়ে আমার জামার ভেতর হাত ঢুকিয়ে দিলে।তুমি ভেবেছিলে আমি চিল্লাবো,যাতে আমি চিল্লাতে না পারি তাই আমার মুখকে বাঁধা দেওয়ার জন্য তুমি নিজের মুখের ব্যবহার করলে।আমার শরীর ছেড়ে দেওয়ায় তুমি কম্ফোর্ট ফিল করলে,আর তখনই আমার হাতদুটো ছেড়ে দিয়েছিলে।কিসুন্দর ধাক্কা মেরে বেড়িয়ে এসেছিলাম।তোমার ভয়ানক রূপ আমাকে অতটা অবাক না করলেও,আমাকে দারুন ভয় পাইয়ে দিয়েছিল।

Advertisement

Advertisement

ভয় কাটতে প্রায় ছয় মাস লেগে গেল।আসলে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক,একটা 17 বছরের মেয়ের সাথে এরকম হচ্ছে,সে সবাইকে জানাচ্ছে আর সবাই এক কথা বলছে “দাদা তো,যতই খারাপ হোক আমাদের দাদাতো,আমি কিছু করতে পারবোনা রে।”সে বাড়ির লোকেদের জানাচ্ছে,বাড়ির লোকেরা বলছে “জলে থেকে কুমিরের সাথে লড়া যাবেনা,চুপচাপ পড়তে যা,সাবধানে থাক,বন্ধুদের সাথে থাক।” ভয় পাবেনা একা একা? তাও সে বেঁচে রয়েছে এটাই অনেক। আমি তখন সিদ্ধান্ত নিলাম পড়া ছেড়ে দেব তোমার কাছে,তোমার মুখটা দেখতেও ভয় আর ঘেন্না লাগছিল,ছেড়ে দিলাম, কেমন একটা দিশাহারা হয়ে পড়ে ছিলাম।তুমি ভয় পেলে যে আমি তোমার কুকীর্তি অন্য কোথাও যদি বলে ফেলি,তোমার প্রফেশন নষ্ট হবে।অমনি আমাকে ভয় দেখাতে লাগলে।

Advertisement

এমনিতে সংস্কৃত ভয় পাই,তারওপর তোমার ভয়,তারওপর তোমার দ্বারা সৃষ্ট সংস্কৃতের ভয়,যেগুলো নাকি তুমি ছাড়া নবদ্বীপে কেও পারেনা পড়াতে।বাড়িতে বললাম ওঁরা বলল “দাদার সাথে কথা বল,আবার পড়”আমি ফোন করলাম ভয়ে ভয়ে।যেখানে আমাকে সবার অন্য রাস্তা দেখানো উচিৎ ছিল সেখানে সবাই আবার আমাকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিল,বন্ধুরাও।তুমি ফোন তুলেই বললে দেখা করতে।আমি গেছিলাম যখন সবার পড়া ছিল, মনে আছে?30 মিনিট তুমি আমাকে এটা বুঝিয়েছিলে যে “তুমি শূন্য থেকে এত কিছু করেছ,তুমি শূন্য হতে ভয় পাওনা,তোমার ডাকে 50টা ছেলে হাজির হয় (লাইনটার দ্বিতীয় ব্যবহার)” এটাও বুঝিয়েছিলে তোমার 12 বছর পড়াতে পড়াতে একঘেয়ে লেগে গেছে তাই তুমি একটু আনন্দ নাও।লজ্জা করেনা?

Advertisement

তোমার হবু স্ত্রী এ আনন্দের বিষয়ে জানে?তোমার মা-বাবা জানে?জানলে হয়তো তোমার নোংরামি এত দিনে বন্ধ হত।যাক তোমার কাছে আবার পড়লাম,পড়ার মাঝেও ছোটো খাটো হুমকি দিতে থাকলে।একবার চেষ্টা করেছিলে সুযোগের,কিন্তু ব্যর্থ হয়েছিলে।আমার এক দাদা তোমায় হুমকি দিয়েছিল,হ্যাঁ ঠিকই ধরেছ,হুমকিটার সম্পর্কে আমি সবই জানতাম,তুমি জানতে যে আমি জানতাম না,তুমি কয়েকদিন স্থির হয়ে গিয়েছিলে,ভেবেছিলাম ওষুধ কাজ করেছে। কিন্তু তুমি যে তাও সুধরাওনি,সেটা বুঝেছিলাম তোমার আবার আমাকে আলাদা ডাকার সময়,আমি কি সুন্দর এড়িয়ে গেছিলাম।আরও কতও জনার সাথে এরকম করে বেড়াচ্ছো তা হয়তো এরপর জানা যাবে,সবাই গর্জে উঠলেই জানা যাবে।

Advertisement

তুমি ভালোভাবেই জানো যে আমাদের বয়সটা যৌবনকাল,এই সময় একটু উস্কানিতেই আমরা ভুল পথে চালিত হতে পারি। আর তুমি এই সুযোগটাই সবার সাথে নিচ্ছো।আজ আমি ভয় দূর করে তোমার মুখোমুখি হবো,এরপর রাস্তায় আমার কোনো অঘটন হলে তার দায় প্রথমে তোমার ঘারে চাপবে।হ্যাঁ সমাজের স্বভাব,ছেলেদের আগে মেয়েদের দোষ খোঁজা যদি মেয়েদের দোষ না পায় তখন ছেলেদের দোষ খুঁজতে আসে।

Advertisement

এক্ষেত্রেও তাই হবে।কিন্তু তোমার দোষ আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দি 1.শিক্ষক হয়ে বাজে ভাষা প্রয়োগ করা,বাজে প্রস্তাব দেওয়া। 2.আমার অনিচ্ছায়,জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করা (আমি যেহেতু বেঁচে আছি সেহেতু এটা দোষ না ও হতে পারে)।3.আমাকে মানষিক ভাবে ধর্ষণ করা,যা তুমি প্রতিনিয়ত করেছ।
আর আমার দোষ 1.ভয় পাওয়া।2.সবার সাহায্যের অপেক্ষা করা।3.মুখ বুঝে মেনে নেওয়া। আর নয় এবার মুখোশ খোলো।
ইতি
তোমার প্রিয় বোন।

Advertisement

[বিঃদ্রঃ আমি দিশাহারা হয়ে একজন শিক্ষকের কাছে পরে ভর্তি হই,তিনি সম্পূর্ণ আলাদা।ভাষায় প্রকাশ করতে পারবোনা। ওনার কাছ থেকেই আমি বুঝতে পারি আমি সংস্কৃতে অযথা ভয় পেয়েছি।আজ উত্তরপ্রদেশের মনীষার মতো আমার হলে হয়তো সবাই গর্জে উঠত,ধর্ষন হওয়ার আগে বেঁচে গেলে তাঁর শাস্তি হয়না?না,আমার ভার্জিনিটি নষ্ট হয়নি,তবে যেটুকু হয়েছে সেটুকুও কী একটা কলেজ প্রফেসরের কাছে আশা করা যায়?

Advertisement

প্রত্যেক ধর্ষক বড়ো মাপের ধর্ষণ করার আগে ছোটো খাটো প্রচেষ্টা করেই থাকে,এটা তারই নমুনা।এসব জন্তুজানোয়ারদের ঠিক কী করা উচিত?নবদ্বীপটাকে উত্তরপ্রদেশ করে তোলা ঠিক নয়।নিজের শহর,রাজ্য আগে ধর্ষনমুক্ত করতে হবে তারপর অন্য জায়গা,তবে ভারত বদলাবে।এটা লেখার পর আমি অনেক সুস্থবোধ করছি।]
আজ আমার সাথে হয়েছে কাল আমার সাথে হতে পারো,নবদ্বীপের কীটকে চিনি রাখুন। আরো অনেকের সাথে উনি এরকম করেছে,তাঁরা যদি পোস্ট দেখে থাকে তবে প্লিজ এগিয়ে এসো। না এগোলে ধর্ষণের সংখ্যা আরো বারবে। ”

Advertisement

এই বক্তব্যের পাশাপাশি ওই মেয়েটি জুড়েছে হোয়াটসঅ্যাপের কিছু স্ক্রিনশটঃ। সেগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরব তবে এখনো খবরের সত্যতা বিচার হয়নি । অনেকের মতে এটি জঘন্যতম কাজ এবং অনেকের মতে এটিপরিকল্পনামাফিক ফাঁসানোর চেষ্টা। পক্ষ-বিপক্ষ মিলে দু’পক্ষই রয়েছে, তবে সত্যতা বিচারের আশায় সকলে । আশায় ওই মেয়েটিও ।

Advertisement

Advertisement

 

Advertisement
Advertisement

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button