নিউজ

বন সহায়ক পদের চাকরির জন্য জমা পড়লো বিপুল পরিমান চাকরির আবেদন, এইট পাশ করলেই করতে পারবেন আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদন :-বেশ কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক বন সহায়ক দপ্তরে শূন্য পদে আবেদনের নোটিশ বের করা হয়। কিন্তু রীতিমতো সেই নির্দেশিকা বেরোনোর পর মাথায় হাত পড়েছে খোদ বনদপ্তরের আধিকারিকদের। দেশে বেকারের সংখ্যা বেড়ে চলেছে কিন্তু তার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে রাজ্যেও ।

এই ঘটনা যেন তার প্রত্যক্ষ এবং শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। তিন জেলায় সবথেকে বেশি আবেদন জমা পড়ার কথা এই মুহূর্তে জানা যাচ্ছে ,যা দেখে রীতিমতো ঘাবড়ে গেছেন বনদপ্তর আধিকারিকরা। কাকে দেওয়া হবে সুযোগ? কাকেই বা বাদ দেওয়া হবে ইন্টারভিউ থেকে? ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না তারা।

বেশ কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক বনদপ্তর এর সহায়ক পদের জন্য আবেদনের কথা বলা হয় । এবং এই আবেদনের জন্য আবেদনকারীকে ন্যূনতম অষ্টম পাস হতে হবে। কিন্তু এক অবাক চিত্র ধরা পড়লো ।যারা আবেদন করেছেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত। কেউ পিএইচডি তো কেউ বিএড ডিগ্রিধারী । এবার এদেরকে কিভাবে ইন্টারভিউ তে ডাকা হবে তা নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত বনদপ্তর আধিকারিকরা। তবে তার থেকে বেশি চিন্তিত তিন জেলার বনদপ্তর আধিকারিকরা।

দুই মেদিনীপুর এবং ঝারগ্রাম এর সব থেকে বেশি আবেদন জমা পড়েছে। মনে করা হচ্ছে সেখানে বেকারের সংখ্যা সবথেকে বেশি। যেখানে দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গাম মিলে মোট ২৩০ টি শুন্য পদ আছে সেখানে আবেদন করেছে ১ লক্ষ ৩৩ হাজার চাকরি প্রার্থী। ভাবা যায় ? কিন্তু বাস্তবে এমনটাই ঘটেছে।

এবার আপনাদের সামনে যে তথ্য তুলে ধরে কথা শুনলে রীতিমত অবাক না হয়ে থাকতে পারবেন না । পূর্ব মেদিনীপুরে শূন্য পদের সংখ্যা ১০ টি কিন্তু আবেদনপত্র জমা পড়েছে ১৮ হাজার। এর পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুরে শূন্য পদের সংখ্যা হচ্ছে ১৬০ টি যেখানে তিনটি ডিভিশন রয়েছে রুপনারায়নপুর, মেদিনীপুর এবং খড়গপুর সেখানে আবেদনকারীর সংখ্যা ৬৫ হাজার। এর পাশাপাশি ঝাড়গ্রামে আবেদনকারীর সংখ্যা হল ৪৮ হাজার যেখানে শূন্য পদের সংখ্যা মাত্র ৬০ টি।

বনদপ্তর আধিকারিকরা কাকে কখন কিভাবে ইন্টারভিউতে ডাক দেয় সে বিষয়ে বেশ চিন্তিত । তবে আগামী ৫ এ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলেছে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া । প্রতিদিন গড়ে ৪০০ জন আবেদনকারীর ইন্টারভিউ নেয়া হবে এমনটাই সূত্রের খবর । অন্যান্য বনদপ্তর কর্মীদের মতনই হাতি তাড়ানো, বনজ সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব থাকবে তাদের । মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষার উপর হবে মূল্যায়ন।

তার মধ্যে বাংলা পড়তে এবং বলতে জানা নিয়ে থাকবে মোট ৬০ নম্বর । হিন্দি বা ইংরেজি পড়তে পারলেই মিলবে ১০ নম্বর। জেনারেল নলেজ এর উপর থাকে ১০ নম্বর এবং ফিটনেস এর উপর থাকছে বাকি ২০ নম্বর । এখন দেখার বিষয় হলো এত বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীকে কিভাবে ইন্টারভিউ নেওয়া যায় ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button